২৬ জানুয়ারি ২০২১

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগ এবং বিগত সালের প্রশ্নোত্তর

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগ এবং বিগত সালের প্রশ্নোত্তর 

বাংলা সাহিত্যকে তিন  যুগে বিভক্ত  করা হয়েছে।

১. প্রাচীন যুগ ২.মধ্য যুগ   ৩.আধুনিক যুগ


প্রাচীন  যুগ ( ৬০০-১২০০ খি:)

প্রাচীন যুগের আদি নিদর্শন চর্যাপদ। নেপালে রাজ গ্রন্থশালা থেকে ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী  আবিষ্কার করেন।


এটা মূল বৌদ্ধদের গান ও দোহা। যেখানে ধর্ম ও সমাজের  চিত্র মাত্রাবৃত্ত ছন্দে তুলে ধরা হয়েছে।



চর্যাপদ এর অর্থ

চর্যাপদের মূল নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয়। চর্য  অর্থ আচরণীয় অচর্য অর্থ অআচরণীয়  বিনিশ্চয় অর্থ নির্ণয়। এটা হাজার বছর আগের বোদ্ধাদের রচিত গান ও কবিতা মালা।যাতে সমাজের বাস্তবচিত্র ফুটে উঠেছে।

 

চর্যাপদ কোথা থেকে আবিষ্কার হয়?

ইংরেজ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন বাংলা বিভাগের প্রধান মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর  উপর বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার পুরোনো পুস্তক সংগ্রহের দায়িত্ব দেন। তিনি ( প্রথম ১৮৯৭ এবং দ্বিতীয়বার ১৮৯৮ সালে)  ১৯০৭ সালে তৃতীয়বারের প্রচেষ্টায় নেপালের রাজগ্রন্থশালা রয়েল  লাইব্রেরী থেকে চর্যাপদ, ডাকার্ণব, সরোহপাদ ও কৃষ্ণপাদ  নামে চারটি পুস্তক উদ্ধার করেন।

 

চর্যাপদ নেপালে কিভাবে এলো?

ড: মো শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদ ৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দে লেখা।তৎকালীন সমাজপতি ও শাসকশ্রেণী  বৌদ্ধদের উপর অত্যাচার শুরু করে। বৌদ্ধরা প্রাণ ভয়ে তাদের বই- পুস্তক নিয়ে নেপাল, তীব্বত, ও ভূটানে পালিয়ে যায়।

 

চর্যাপদ কোন ছন্দে  লিখিত?

ড: মো: শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদ মাত্রাবৃত্ত ছন্দে  লিখিত।

 

চর্যাপদে কতটি পদ রয়েছে?

ড. মো: শহীদুল্লাহ্ এর মতে চর্যাপদে ৫০টি যার ৪৬ টি খুঁজে পাওয়া গেছে।  ড. সুনীতিকুমার এর মতে ৫১ টি।

চর্যাপদ কোন ভাষায় লিখিত?

ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এর মতে চর্যাপদ সান্ধ্য ভাষায় লিখিত। ড. মো: শহীদুল্লাহ্  বলেছেন, চর্যাপদের ভাষা হচ্ছে  বঙ্গকামরুপী।

 

চর্যাপদে কতজন কবি রয়েছে?

ড. মো: শহীদুল্লাহ্ এর মতে ২৩ জন। আর ড. সুকুমার সেনের মতে ২৪ জন

 

চর্যাপদে সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেছেন কে?

চর্যাপদে সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেছেন “ কাহুপা”

 

চর্যাপদে  কার পদ প্রথম রচিত হয়েছে?

 চর্যাপদে  লুইপার  পদ প্রথম রচিত হয়েছে।

 

চর্যাপদে বাঙ্গালি কবি কে?

লুইপা, ভুসুকুপা ও শবরপা এই তিনজন বাঙালী কবি।

 

চর্যাপদে  প্রচীন ও আধুনিকতম  কবি কে?

 

চর্যাপদের প্রাচীন চর্যাকার  শবরপা এবং আধুনিকতম  চর্যাকার ছিলেন ভুসুকুপা।

 

চর্যাপদের  পদগুলো টিকার মাধ্যমে প্রকাশ করেন কে?

 

চর্যাপদের  পদগুলো টিকার মাধ্যমে প্রকাশ করেন মুনি দত্ত।

 

 

চর্যাপদ নিয়ে কে কোন পুস্তক লেখেন?

 

ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী  ১৯১৫ সালে এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে তালপাতার লেখা নামে ও তার সম্পাদনায় ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে হাজার বছরের পুরাণ  বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধা  গান ও দোহা নামে প্রকাশিত হয়।

 

ড. মোহা শহিদুল্লাহ  চর্যাপদের ধর্মমত বিষয়ে Budhist mystic songs  নামে বই লেখেন

 

ড. সুনীতিকুমার  ১৯২৬ সালে origin and development  of the Bengali Language  নামে বই লেখেন।

ড. সুকুমার সেন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নামে বই লেখেন।

 

চর্যাপদ কোন সময়কালে লেখা হয়?

ড. মো শহীদুল্লাহর মতে ৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ

ড. সুনীতিকুমার এর মতে ৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ

ড. সুকুমার সেনের মতে ৯০০-১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ।

 

সান্ধ্য ভাষা কি?

 

যে ভাষা সুনির্দিষ্ট রুপ পায় নি এবং যে ভাষার একাধি অর্থ বোঝায় তাকে সান্ধ্য ভাষা বলে।

 

 

চর্যাপদের তিব্বতী অনুবাদ কে করেন?

চর্যাপদের তিব্বতী অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র এবং ১৯৩৮ সালে প্রবোধ চন্দ্র তা আবিস্কার  করেন।

 

 

 বাংলা সহিত্যের প্রাচীন ও আদি নিদর্শন কি

উত্তরঃ চর্যাপদ।

 

 

 

 

 ২. মধ্যযুগ (১২০০-১৮০০ খ্রি:)

  মধ্য যুগের শুরুতে তেমন সাহিত্য চর্চা হয়নি।  ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির শাষনে ও অবস্থার পরিবর্তনের কারনে।তুর্কি  শাষনের এই সময়কালকে সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়।  মধ্যযুগের কাব্যের প্রধান ধারা চারটি ক. মঙ্গলকাব্য খ.বৈষ্ণব পদাবলীর গ. রোমান্সধর্মী প্রণয়োপাখ্যান ঘ. অনুবাদ সাহিত্য। মধ্যযুগে মোগল শাষন কালের সময়কে বাংলা সাহিত্যের স্বর্ণালি সময় বলা হয়ে থাকে

অন্ধকার যুগ (১২০০-১৩৫০ খ্রি:)

শাষনকাল তুর্কীদের হাতে চলে যাওয়াই সমাজের পরিবর্তন ঘটে যায়। যার কারনে সাহিত্য চর্চা তেমনটা হয়নি।এই যুগে মাত্র কয়েকটি সাহিত্য নিদর্শন খুঁজে পাওয়া যায়।যেমন

ক.প্রাকৃত পৈঙ্গল: এটি সাহিত্যের অন্ধকার যুগের প্রথম নিদর্শন।  প্রাকৃত ভাষায় শ্রীহর্ষ গীতিকবিতাটি রচনা করেন

 

খ. শূণ্যপূরাণ : শূন্যপূরাণ রামায় পন্ডিত কর্তৃক সাংস্কৃত ভাষায় গদ্য-পদ্যের মিশ্রণে রচিত চম্পুকাব্য। এই গ্রন্থের মূল নাম খুঁজে পাওয়া যায় নি। তাই নগেন্দ্রনাথ বসু এই বইয়ের ভূমিকায় পাওয়া শূণ্যপুরাণ শব্দ থেকে এই নামকরণ করেন।

 

গ. শেকশুভদয়া: রাজা লক্ষ্মণ  সেনের রাজকবি হলায়ুধ সংস্কৃত ভাষায় গদ্য পদ্যে ( চম্পুকাব্য) ২৫ টি অধ্যায়ে রচনা করেন গ্রন্থটি রচনা করেন। এই গ্রন্থে মুসলমান দরবেশের আধ্যাতিক শক্তির পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে।

 

মধ্যযুগের আরেকটি নিদর্শন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

 

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: এটি মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন  বডু চণ্ডীদাস শ্রীকৃষ্ণকীর্তন রচনা করেন।১৯০৯ সালে বসন্ত রঞ্জন রায় বিদ্বিদ্বভল্লব  গ্রন্থটি পশ্চিমবঙ্গের বাকুড়া থেকে বইটি উদ্ধার করেন।এবং তিনি বইটির নামকরণ করেন।ড. মোঃ শহিদুল্লাহ এর মতে বইটি ১৪০০ খ্রিঃ রচনা করা হয়। বসন্ত রঞ্জন রায় ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রথম প্রকাশ করেন। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মূলত নাটকগীতি।

 

 

বিগত সলের কিছু প্রশ্নের উত্তর

 

কোন শাসকের সময়কে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়?

তুর্কী শাসনামলকে

 

শূন্যপূরাণ কাব্য কার রচনা?

রামায় পন্ডিত

 

 

আধার যুগের রচনা বলা হয় কোনটিকে?

প্রাকৃত মঙ্গল

 

মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন কোনটি?

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

 

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কে লেখেন?

বডু চণ্ডীদাস

মধ্যযুগের প্রথম কবি কে?

বডু চণ্ডীদাস

 

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কার করেন কে?

বডু চণ্ডীদাস।

বড়ায় কোন গ্রন্থের চরিত্র

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

 

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের খন্ড সংখ্যা কয়টি

১৩ টি।

 

বৈষ্ণব পদাবলী

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন কি?

বৈষ্ণব পদাবলী

 

পদাবলীর প্রথম কবি কে?

বিদ্যাপতি।

 

 

মঙ্গল কাব্য

 

মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম নিদর্শন কি?

মঙ্গল কাব্য

মঙ্গল কাব্যে কয়টি অংশ থাকে

৫টি

মনসা মঙ্গল কাব্যের আদি কবি কে?

কানা হরিদত্ত

চন্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান ও শেষ্ঠ কবি কে?

মুকুন্দরাম চক্রবর্তী

 ভারত চন্দ্র রায় গুনাকর কবে মারা যান?

১৭৬০ সালে মারা যান।