২৮ জানুয়ারি ২০২১

ইসলামে নারী শিক্ষা ও কিছু মহীয়সী নারীর নাম

 ইসলামে নারী শিক্ষা ও কিছু মহীয়সী নারীর নাম

মহান আল্লাহ তাআ’লা নারী ও পুরুষ আলাদা আলাদা গুরুত্ব দিয়ে দুনিয়াতে পাঠায় নি।আল্লাহ কেরআনে বলেছেন,”নিশ্চয় যারা জানে আর যারা জানে না তারা সমান নয়।“ অর্থাৎ জানতে হবে আর জানতে হলে পড়তে হবে আর পড়তে হলে শিক্ষিত হতে হবে।হাদীসে আছে, প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর জ্ঞান অর্জন ফরজ করা হয়েছে।তাই আমরা বলতে পারিনা নারীদের জ্ঞান অর্জনের দরকার নাই।

হযরত খাদিজা (রাঃ আরবের একজন বিখ্যাত নারী বণিক হিসাবে সুপরিচিত ছিলেন।এবং তিনি শিক্ষিতা নারী ছিলেন।

ইসলামী ইতিহাসবিদ ইবনে আসাকির বলেন,ইসলামি স্বর্ণযুগে নারী শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটে।হযরত আয়েশা (রাঃ) ছিলেন নারীদের অনুপ্রেরণা। তিনি  হাদীস, কবিতা, কোরআন, ফিকহ, তাজবিদ এ পারদর্শী ছিলেন।এছাড়া নারী সাহাবদের মধ্যেও অনেকে শিক্ষিত ছিল।

রাবিয়া বিনতে মুয়াদ ছিলেন মদিনার একজন আইন বিশেষজ্ঞ।

উম্মে আতিয়া যিনি অনেক পুরুষকে  আইন শিক্ষা দিয়েছেন।আয়েশা বিনতে সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস  তিনি নারী হয়েও সেইময়কার বিখ্যাত পণ্ডিতগণদের শিক্ষা দান করেছেন।


শিক্ষিতা নারী


যে সকল নারীরা শিক্ষার জন্য আবদান রেখেছেন

মুসলিমদের জন্য সর্বপ্রথম যে বিশ্ববিদ্যালয়টি নির্মিত হয় তার নাম “আল-কারাওয়িন”।যেটি ৮৫৯  সালে বিখ্যাত বণিক মোহাম্মদ আল-ফিহরির মেয়ে ফাতেমা আল-ফিহরি বর্তমান মরক্কোতে নির্মাণ করেন।ফাতেমা আল-ফিহরি একজন উচ্চ শিক্ষিতা, ধার্মিক ও শিক্ষানুরাগী  নারী হিসাবে পরিচিত ছিলেন।

 ১৫৭১ সালে অটোমেন শাসনামলে নূরবানু সুলতান (সুলতান সেলিম(২) এর স্ত্রী আতিক ভেলিড মসজিদ নির্মাণ করেন যেখানে শিক্ষা দেওয়া হতো।

২০ শতাব্দীতে জন্ম নেয়া নানা আসমা এখনো উত্তর নাইজেরিয়ার একজন শিক্ষানুরাগী নারী হিসাবে পরিচিত আছেন।

 

অতিতের উচ্চ শিক্ষিত মুসলিম  নারীর সংখ্যা

ইতিহাস বলে,৭০০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যপ প্রায় ১০৭৫ জনেরও বেশি নারী, হাদীস, কোরআন, কবিতা, ক্যালিগ্রাফি, কারুশিল্পে পারদর্শী ছিলেন।মোহাম্মদ আকরাম নাদভী ও আল-সাখায়্যি বলেন, ১২ শতাব্দীতে প্রায় ৮০০০ নারী বিশেষজ্ঞ  ছিল।

 

আব্বসী খেলাফতের সময় নারীরা তার জ্ঞানের জন্য বেশ প্রসংসিত ছিলো।তখন নারীদের গান, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য ইত্যাদি প্রশিক্ষণ দেয়া হতো তাদের একজন ছিল মেহবুবা যিনি এসব বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন। তাওয়াদুদ নামে একজন ক্রীতদাসী নারী ছিলেন যিন চিকিৎসা, গান, কবিতা, দর্শন, ইতিহাস, আরবি ব্যাকরণ ও আবৃত্তিতে এত বেশি পারদর্শী ছিলেন যে খলিফা হারুন আর রশীদ তাকে অনেক দাম দিয়ে কিনে নিয়েছিলেন।১২ শতাব্দীতে বাগদাদে নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বিদ্বান ও  নারীর গর্ব হিসাবে সুপরিচিত ছিলেন “শুহদা” নামের এক মহীয়সী নারী।

 

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটা প্রতীয়মান যে ,সুযোগ পেলে নারীরাও পরিবার ও সমাজে পরিবর্তন আনতে পারে। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে পারে। আদিমকালে যখন পুরুষেরা বাইরে শিকারে বের হতো নারীরা তখন কৃষি কাজ করতো।ধারনা করা হয় আদিমকালে কৃষি বিপ্লবের পিছনে নারীর অবদান সবচেয়ে বেশি।

ধর্ম আমাদেরকে বিভক্ত করেনি। জাল, যয়িফ, ভিত্তিহীন কথা ও হাদীস বলে একশ্রেণির ভন্ড যাজক শ্রেণি ধর্মের অপব্যাখ্যা করছে।