৩০ জানুয়ারি ২০২১

ইসলামে অমুসলিমদের অধিকার ও ঐতিহাসিক শান্তি চূক্তি

 ইসলামে অমুসলিমদের অধিকার ও ঐতিহাসিক শান্তি চূক্তি 

আমরা অনেকে জানি এবং মানি ইসলাম একটি শান্তির ধর্মইসলাম এসেছে সালাম শব্দ থেকে যার অর্থশান্তিমুসলিমরা বিশ্বাস করে অতিতে অগণিত নবী-রাসুলকে মহান আল্লাহ তার বান্দাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করানোর জন্য পাঠিয়েছেনতাই মুসলিমরা ভিন্ন ধর্মের পথ প্রদর্শনকারীদের শ্রদ্ধা সম্মান করেনআমার মনে হয় মুসলিমরা তার আসল ইতিহাস ঘাটছে নামুসলিম ধর্মযাজক তথা মাওলানাদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেনমুসলিমরা তাদের মহানুভবতা মানবতার কল্যাণে ইসলামের ভূমিকা কেমন ছিল তা ভুলতে বসেছেমুসলিমরা তাদের ধর্মের বিষয়ে অমুসলিমদের ছুড়ে দেওয়া প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছে নাকারন মুসলিমরা ইতিহাসের ইতিহাস নিয়ে খুব কম গবেষণা করছে অথচ পৃথিবীতে যত ধর্মীয় সম্প্রদায়ের লোক আছে তাদের চেয়ে অনেক মুসলিম সম্প্রদায় ধর্ম অনুসরণ করে থাকেযাইহোক ইসলামে অমুসলিমদের অধিকার নিয়ে অনেক হাদীস এবং কোরআনের আয়াত রয়েছে

কোরআনে অমুসলিমদের অধিকার 

কোরআনে সূরা কাফিরুন এর ৬ নং আয়াতে আছে, "যার যার ধর্ম তার তার কাছে"রাসূল সাঃ বিদায় হজ্বে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন

 সূরা বাক্বারার ২৫৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে ধর্মের ব্যপারে কোন জবর দস্তি নেই।

সূরা কাহফ এর ২৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে যার ইচ্ছা সে ঈমান আনবে যার ইচ্ছ সে আনবে না।

সূরা বনী ইসরাইল এর ১৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে, কেউ কারর বোঝা বহন করবে না।

আমি এখন এমন একটি চুক্তির কথা বলব যা হয়ত অনেক মুসলিম ভাই জানে না

 নিম্মে তা নিয়ে আলোচনা করা হলো ও তার চুম্বক অংশগুলো তুলে ধরা হলো

মুসলিম অমুসলিমদের মাঝে শান্তি চুক্তি  Ashtiname Of Muhammad (PBH):

Ashtiname এটা একটি পার্সিয়ান শব্দযার অর্থ Book Of Peace.শান্তির পত্রAshtiname চুক্তিতে রাসূল সাঃ এর হাতের ছাপ রয়েছে যেটা লিখেছেন হযরত আলী (রা)মিসরের Saint Catherine monastery চার্চ মুসলিমদের নিয়ে চুক্তিটি হয়সেইন্ট ক্যাথেরিন চার্চ প্রতিষ্ঠিত হয় ৫৪৮-৫৬৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যেআর রাসূল (সা) এর জন্ম ৫৭০ খ্রিস্টাব্দেসেই সময় মিসরের যিশু খ্রিষ্টের অনুসারীরা রাসূল (সাঃ) এর কাছে তাদের জান-মাল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি লেখেন।তাতে নবী মোহাম্মদ সাড়া দেনতিনি মুসলিমদের উদ্দেশ্য বলেন তারা যাতে তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা দেন নিরাপত্তা দেন

এখানো চুক্তি পত্রের মূলকপিটি সংরক্ষিত আছে। 

Ashtiname




এখানে চূক্তি পত্রটির চুম্বক অংশ   তুলে ধরা হলোঃ-

 

***এই মর্মে পত্রটি জারি করা হলো, আব্দুল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ, বার্তাবাহক, নবী, একজন বিশ্বাসী যাকে সৃষ্টিকর্তা তার সৃষ্টির সকলকে বিশ্বাসী হিসাবে তৈরি করতে পাঠিয়েছেনযাতে পরকালে কেউ অজুহাত দেখাতে না পারেনিশ্চয় সৃষ্টিকর্তা সর্বশক্তিমান, এবং প্রজ্ঞাময় পূর্ব পশ্চিমে নাসারিনের  যীশুর অনুসারী পক্ষে দূরে কিংবা কাছে, আরব বা বিদেশি জ্ঞাত-অজ্ঞাত সকলের জন্য ইসলাম গ্রহনকারীদের প্রতি নির্দেশনা দেয়া হলো

এই চিঠির মাধ্যমে তাদের অঙ্গীকার করা হলো যারা এই চিঠি অবিশ্বাস অমান্য করবে তাদেরকে অবিশ্বাসী পাপচারী বলে গন্য করা হবেযারা এই চিঠি অমান্য করবে তারা  এমন হিসাবে বিবেচিত হবে যে তারা তাদের সৃষ্টিকর্তার কাছে দেয়া শপথ

কলুষিত করেছেতার নিয়মকে অস্বীকার করেছে,তার কর্তৃত্বকে অস্বীকার করেছেতার বিধানকে তুচ্ছ করেছেএবং তারা নিজেদের অভিশাপের যোগ্য করে তুলবেসে সুলতান হোক বা ইসলামের অন্য কেউযখন খ্রিস্টান সন্ন্যাসী,ভক্ত তীর্থযাত্রীরা পর্বত বা উপত্যকা,গোলা বা ঘন জায়গা,বা সমতল,গীর্জা বা উপাসনা ঘরে একত্রিত হয়ে প্রার্থনা করে তখন আমরা অবশ্যই তাদের রক্ষা করব,নিরাপত্তা দেবআমরা, আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা এবং আমার সাহায্যকারীরা তাদের সম্পত্তি রক্ষা করবেকারন তারা আমাদের অধীনেতাদের সুরক্ষা আমাদেরইতারা বিরক্ত হয় এমন কিছু করবে নাআমি তাদের সুযোগ দেবতাদের আয়ের অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে নাতারা বিরক্ত কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন কিছু করা উচিত হবে নাতাদের চল-ফেরা তাদের কার্যসম্পাদনের বাধা দেবে নাতাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নির্বিঘ্নে ধর্ম পালনে বাধা হয় এমন কিছু করা যাবে নাএবং এই খ্রিস্টানদের বাড়ি-ঘর দখল, ধর্মীয় উপাসনালয় ধ্বংস করা যাবে নাতাদের ধন-দৌলত লুট করা ইসলামে নিষেধআর যারা করবে তার আল্লাহকে দেয়া শপথ ভঙ্গ করবেএবং রাসূলকে অমান্য করার সামিল  হবেতাদেরকে জিজিয়া (অতিরিক্ত অর্থ), বাড়তি কর, দিতে হবে নাতাদের ন্যায্য অধিকার পূরন করবেজল-স্থলে, উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিম যেখানে তারা থাকুক না কেন তারা আমাদের সুরক্ষার  অধীনে তাই তাদের নিরাপত্তা দিতে হবেযারা ইশ্বরের ইবাদত করে বা পবিত্র ভূমি চাষাবাদ করে তাদের থেকে কর নেয়া হবে নাতাদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ অনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার কারর নেইতাদেরকে তাদের জায়গা থেকে তাড়িয়ে দেয়া যাবে না তাদেরকে জোরপূর্বক যুদ্বে যেতে বাধ্য করা যাবে না

 

এই চূক্তিতে আরো বলা হয়েছে, কোরআনের আয়াত তুলে ধরে যে তোমারা আহলে কিতাবদের সাথে কুতর্ক করবে না সেটা সর্বোত্তমতারা যেখানে খুশি থাকবে।

 

তারা যেখানে খুশি সেখানে নিরাপদে থাকতে পারবেযে কোন জায়গায় যেখানে তাদের খুশিইসলামের অনুসারী দ্বারা তারা নিরাপত্তা পাবে

কোন খ্রিস্টান মহিলা কোন মুসলিমকে বিয়ে করতে পারবেতাদেরকে গীর্জায় যেতে বাধা দেয়া যাবে নাতাদের গীর্জা অবশ্যই সম্মানিতএটা তৈরি বা মেরামতে বাধা দেয়া যাবে নাতাদেরকে অস্ত্র পাথর বহনে বাধা দেয়া যাবে নাপ্রয়োজনে তাদরকে রক্ষায় অন্যদের সাথে মুসলিমরা লড়বেইসলামের অনুসারীদের এসকল নিয়ম আদেশ কিয়ামত পর্যন্ত মানতে আদেশ দেয়া হলো

 

আমরা ধর্মীয় সম্প্রীতির মাধ্যেমে একটি দেশ তথা পুরো বিশ্বকে হানাহানি মুক্ত  ও শান্তির পৃথিবী হিসাবে তৈরি করতে পারি