হযরত আয়েশা রাঃ এর মূল বয়স
যখন রাসূল (সাঃ) আয়েশা (রাঃ) কে হিজরতের (৬২২খ্রিস্টাব্দ) এক বছর পরে বিয়ে করেন । হিজরতের ৯ বছর পূর্বে সূরা আল কামার নাযিল হয়। যখন সূরাটি নাযিল হয় তখন আয়েশা (রাঃ) বলেছেন যে তিনি তখন ছোট ছিলেন।সহীহ বুখারীর ৬ নং ভলিউমের ৬১ নং বইয়ের৫১৫ নং হাদীস। যদি আমরা ধরি, আয়েশা (রাঃ) এর বয়স তখন ৬ বছর ছিল তাহলে বিয়ের সময় বয়স ছিল ১৫ বছর।
যেহেতু আয়েশা (রাঃ) বিয়ে হয় হিজরতের এক বছর পরে।আয়েশা (রাঃ) বদর ও উহুদ যুদ্বে অংশগ্রহণ করেছেন। সেই সময় আরবের নিয়ম ছিল কোন অপ্রাপ্ত বয়স্ক লোক যুদ্ধে যেতে পারবে না। বদর ও উহুদের যুদ্ব হয় যথাক্রমে ২ ও ৩ হিজরিতে।যেহেতু অপ্রাপ্ত বয়স্ক লোক যুদ্ধে যেতে পারে না সেহেতু আয়েশা ১৫ বছরের চেয়ে বেশি বয়সী ছিলেন।আসমা (রাঃ)(৫৯৫-৬৯২) আয়েশার বড় বোন। আসমা হিজরতের ৭৩ বছর পরে ১০০ বছর বয়সে মারা যান।হিজরতের সময় আসমার বয়স ছিল ২৭ বা ২৮ বছর।আয়েশা আসমার থেকে দশবছরের ছোট। তাই বলা যায় বিয়ের সময় আয়েশার বয়স ১৭ বা ১৮ ছিল।আবু বক্কর (রা) এর চার সন্তান ছিল তারা সবাই ইসলামের প্রথমিক যুগে ইসলাম গ্রহন করেন এই হিসাব করলে বোঝা যায় হিজরতের সময় আয়েশার বয়স ছিল ১৫ বছর।
উমর ইবনে খত্তাব হিজরতের ৭ বছর পূর্বে ইসলাম গ্রহন করেন। ঐসময় আয়েশা ইসলাম গ্রহন করেন। অর্থাৎ হিজরতের সময় আয়েশার বয়শ ছিল ১৫ বছর।
বর্ণনায় এসছে আয়েশা (রাঃ) এর চেয়ে ফাতেমা(৫০৫-৫৩২) (রাঃ) ৫ বছরের বড় ছিল।ফাতেমার যখন বিয়ে হয় তখন তার বয়স ছিল ২০ বছর। কারন ফাতেমা (রাঃ) বিয়ে হয় ৬২৩ খ্রিস্টাব্দে। ।আয়েশা (রাঃ) তখন বয়স ছিল ১৫ বছর৷ ফাতেমা (রাঃ) এর বিয়ে হয় ২য় হিজরিতে।
সহিহ বুখারীরতে একটি মাত্র হাদীস পাওয়া যায় যেখানে বিয়ের সময় আয়েশার বয়স ৯ বছর ছিল বলে উল্লেখ আছে। এই হাদীসটি হিসাম ইবনে আরওয়া তার বাবার কাছ থেকে শুনেছেন বলে উল্লেখ করেন।হাদীস সংগ্রহ শুরু হয় রাসূল সাঃ মারা যাওয়ার প্রায় ২০০ বছর পর।এখনেই বিবেচনার বিষয়। হিসাম বসবাস করতেন মদিনায়। যখন তিনি ইরাকে চলে যান তখন তার বয়স ছিল ৭১ বছর।শেষ বয়সে উনার স্মৃতি শক্তি নিয়েও প্রশ্ন আছে।
উপরোক্ত তথ্যপ্রমানের ভিত্তিতে এটা স্পষ্টভাবে বলা যায় যে, যখন আয়েশা (রাঃ) এরা সাথে রাসূল (সাঃ) এর বিয়ে হয় তখন বয়স ছিল ১৬-১৭ বছর। এবং যখন সংসার জীবন শুরু করেন তখন বয়স ছিল ১৯ অথবা ২০ বছর।
